fbpx
বাংলায় নীল চাষ ও নীল বাণিজ্যের ইতিহাস

বাংলায় নীল চাষ ও নীল বাণিজ্যের ইতিহাস

ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও ক্লেশময় সামাজিক সংগ্রামের চিহ্ন হয়ে আছে নীলচাষের ইতিহাস। কাপড়ে রঙ দেয়ার জন্য সে আমলে বহুল ব্যবহৃত এই নীল ব্রিটিশ ভারতে ইংরেজদের সর্বাধিক লাভজনক পণ্যের তালিকায় অন্যতম ছিল। “ভারতের আর সব কৃষিপণ্য ও শিল্পের তুলনায় নীলশিল্পের কাহিনী ঐতিহাসিকভাবে অনেক কৌতুহল-উদ্দীপক, মর্মন্তুদ ও শিক্ষাপ্রদ”- ব্রিটিশ ভারতের অর্থকরী উৎপাদের সরকারী প্রতিবেদক ও প্রখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যার জর্জ ওয়াট ভারতের নীলচাষ সম্পর্কিত তার প্রতিবেদনে এভাবেই নীলচাষ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।

‘নীলচাষ’ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোনো ইংরেজ সাহেবের হাতে চাবুক, অসহায় কৃষকের চোখে জল, নিরুপায়ের আহাজারি ও ক্ষুধার হিংস্র থাবা। এখনও বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেক নীলকুঠি। ভারতবর্ষে ও বাংলায় নীলচাষের উৎপত্তি, বিস্তৃতি ও আরও ভেতরের কথাগুলো নিয়েই এই লেখা।

নীল চাষের পটভূমিকা

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ভারতবর্ষে নীল চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। ইউরোপীয় বণিকরা অন্যান্য অনেক কৃষিজাত পণ্যের পাশাপাশি নীলের সুলভতার কারণেই ভারতবর্ষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পরে পর্তুগিজরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবার সমুদ্রপথ আবিষ্কার করলে সেখান থেকেই গোটা ইউরোপের বাজারে সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ নীল আমদানি শুরু করে। সপ্তদশ শতকে ওলন্দাজরা নীল ব্যবসায় পর্তুগিজদের একচেটিয়া সুবিধা নষ্ট করে দেয়। এরপর ইংরেজরাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করে। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার পর তারা এদেশীয় চাষীদের দ্বারা কম খরচে নীল উৎপাদন শুরু করে।

ব্রিটিশরা আগে ‘ঔড’ (Woad) নামক একপ্রকার গাছ থেকে নীল তৈরি করতো। ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করার পর ব্রিটিশ বণিকরা পশ্চিম ভারত থেকে নীল কিনে নিয়ে যেত ইউরোপে। দেশীয় আদি পদ্ধতিতে তৈরি এই নীলই ইউরোপের বাজার থেকে ঔডের রংকে সরিয়ে দেয়, এনে দেয় সন্তোষজনক মুনাফা। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নীলকররা এতে প্রলুব্ধ হয়। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি দেখা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নীলকরদের উৎপাদিত উচ্চমান অনুসারে প্রক্রিয়াকৃত নীল ইউরোপের বাজার থেকে ভারতীয় নীলকে হটিয়ে দিতে শুরু করেছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭২৪ সালে নীল ব্যবসা পরিত্যাগ করে। কিন্তু তারা বাজার ছেড়ে দেবার অব্যবহিত পরেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নীলকররা অপেক্ষাকৃত বেশি লাভজনক চিনি ও কফির ব্যবসায় ঢুকে পড়ে। ফলে তাদের নীল ব্যবসা স্তিমিত হয়ে যায়।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি এসে ব্রিটিশ বস্ত্র উৎপাদকরা উৎকৃষ্ট মানের নীলের জন্য স্পেনীয় গুয়াতেমালা ও ফরাসি সান্তো দেমিঙ্গোর উপর এবং মাঝারি মানের নীলের জন্য দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশরা যখন আবিষ্কার করলো যে, রঙ প্রাপ্তির কোনো উৎসই আর তাদের হাতে নেই, তখন ভারত থেকে নীল আমদানির জন্য তারা আবারও উৎসাহিত হয়ে উঠলো।

নীল বাণিজ্যের পুনরুজ্জীবিতকরণ

ভারতে নীল ব্যবসার পুনরুজ্জীবন ঘটাতে কোম্পানি প্রাথমিক প্রচেষ্টায় বেশ কিছু অব্যবস্থাপনা দেখা যায়। ১৭৭৯ থেকে ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানি বেশ কিছু বেসরকারি ব্যবসায়ীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এই ব্যবসায়ীরা ইউরোপীয়দের তত্ত্বাবধানে নীল কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে আগ্রা ও অযোধ্যা থেকে তৈরি নিম্নমানের নীল কোম্পানিকে সরবরাহ করতো। ১৭৮৮ সালে কোম্পানি এসব চুক্তি বাতিল করে বাংলায় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পদ্ধতিতে নীল উৎপাদনে আগ্রহী কয়েকজন ইউরোপীয় নীলকরকে সমর্থন যোগায়। কোম্পানি দেখে, ইউরোপীয় তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত হলে বাংলার নীলও সর্বোত্তম মানের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নীলের সমকক্ষ হতে পারে।

১৭৯৬ সালে গভর্নর জেনারেল জন শোর কলকাতা থেকে রপ্তানিযোগ্য নীলের মানোন্নয়ন ও বাংলায় নীল শিল্প জোরদার করার লক্ষ্যে আগ্রা ও অযোধ্যা থেকে বাংলায় আসা সকল নীলের উপর ১৫% হারে শুল্ক ধার্য করেন। শতাব্দীর শেষে দেখা যায়, ব্রিটেনে বাংলা থেকে আমদানিকৃত নীলের পরিমাণ, ভারতের অন্যান্য স্থান থেকে আমদানিকৃত নীলের পরিমাণের দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীল চাষ ও নীল গাছ থেকে রঙ উৎপাদন ছিল অত্যন্ত দুরূহ একটি পদ্ধতি। নীল রঙ তৈরির জন্য প্রয়োজন হতো প্রচুর স্বচ্ছ পানির। এজন্য নীলের কারখানাগুলো তৈরি হতো সবসময় নদী তীরবর্তী এলাকায়। নদীর পানি হস্তচালিত পাম্প দ্বারা কারখানার জলাধারে আনা হতো। তারপর সেই পানি নেয়া হতো নিরেটভাবে তৈরি সারি সারি চৌবাচ্চায়। একটি ছোটখাট নীল কারখানায় এরকম চৌবাচ্চা থাকতো প্রায় ছয় জোড়া, বড় কারখানাগুলোতে থাকতো পনেরো জোড়ার মতো। আর থাকতো তামা বা ঢালাই লোহার তৈরি একটি বয়লার। ভবন ও যন্ত্রপাতিসহ একেকটি নীল কারখানার পেছনে ১৫-৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হতো।

নীলগাছ কাটার পর একজন রায়ত গাড়ি বা নৌকা বোঝাই করে কারখানায় নিয়ে আসতো। একজন কর্মচারী ছ’ফুট লম্বা লোহার চেইন দিয়ে একেকটি নীলগাছের আঁটি বেঁধে মেপে নিতো। রায়ত ঠিকমতো ঘুষ দিতে পারলে চেইনের ঘেরে ঢিল পড়তো, ফলে অপেক্ষাকৃত কম গাছেই এক আঁটি হয়ে যেত। গাছের মান ও নীলকরের করুণার উপর একজন রায়ত চার আঁটি বা ছয় আঁটি নীলগাছের জন্য এক টাকা করে দাম পেতো। উল্লেখ্য, রায়ত বলতে মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে প্রথাগত ও আইনসম্মতভাবে বাংলার কৃষককুলকে বোঝানো হতো। ব্যাপক অর্থে এটি রাষ্ট্রের প্রজাসাধারণ ও শাসকশ্রেণীর অধীনস্থ বোঝাতেও ব্যবহৃত হতো।

মাপা হয়ে গেলে গাছগুলোকে নেয়া হতো জোড়া চৌবাচ্চার ওপরে। চৌবাচ্চার মধ্যে গাছগুলোকে সাজানোর পর তাতে পানি ভরা হতো। গাছগুলো যাতে ভেসে না উঠতে পারে, সেজন্য বাঁশ দিয়ে চেপে রাখা হতো। এভাবে সারারাত, অর্থাৎ প্রায় ৮-১০ ঘন্টা গাছগুলোকে গাঁজানোর জন্য ডুবিয়ে রাখা হতো। সকালে একজন নীলকর এসে পর্যবেক্ষণ করতো যে, পানির উপরে তামাটে নীল রঙের ফেনা জমেছে কি না। এছাড়া তাপমাত্রা মাপার জন্য পানিতে থার্মোমিটার ডুবিয়ে দেয়া হতো। নীলকর যদি মনে করতো গাছের পাতা যথেষ্ট পরিমাণে গেঁজিয়ে উঠেছে, তাহলে জোড়া চৌবাচ্চার উপরেরটির ছিপি খুলে ফেলার নির্দেশ দিতো।

উপরের চৌবাচ্চার তরল তখন নিচের চৌবাচ্চায় এসে পড়তো। এই তরল হতো কমলা বর্ণের ও কটু গন্ধবিশিষ্ট। নিচের চৌবাচ্চায় রঙিন তরল সম্পূর্ণভাবে জমা হওয়ার পর দশজন মজুর একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তো চৌবাচ্চার মধ্যে। কোমর সমান পানিতে দুই সারিতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তারা রঙিন তরল নাড়াতে থাকতো। কুলিরা বিভিন্ন ভঙ্গিতে একনাগাড়ে এই নাড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতো। নাড়ানোর গতি ঠিক রাখার জন্য তারা গলা মিলিয়ে নানা গান গাইতো। নাড়ানোর ফলে অক্সিজেনের সংস্পর্শ পেয়ে এই তরল হলুদ ফেনাসহ সবুজাভ রঙ ধারণ করতো। নীলকর যখন মনে করতো যে তরল যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন পেয়েছে, তখন তার ইশারায় মজুররা উপরে উঠে আসতো। উঠে আসার আগে তারা শেষবারের মতো একবার পাক খেয়ে নিতো। এতে চৌবাচ্চায় ঘূর্ণি তৈরি হতো। এরপর চৌবাচ্চার তরল ধীরে ধীরে থিতিয়ে পড়লে দেখা যেতো চমৎকার নীল রঙের তলানী জমে আছে।

উপরের পানিটি ফেলে দিয়ে এই নীল রঙের তলানী পাশের ভবনের বয়লারে পাম্প করে নিয়ে যাওয়া হতো। বয়লারে ফুটানোর সময় এই ঘন নীলকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাঝে মাঝে নাড়ানো হতো। প্রায় দু’ঘন্টা ফুটানোর পরে আরও ঘন হয়ে যাওয়া নীল আরেকটি চৌবাচ্চার উপর বিছিয়ে রাখা চাদরের উপর ছড়িয়ে রাখা হতো তলানী ঝরানোর জন্য। তারপর এই চাদর ভাঁজ করে এর উপর চাপ দিয়ে বাড়তি পানি নিঙড়ে ফেলা হতো। জমাট বেঁধে যাওয়া নীল এরপর সাবানের মতো আয়তাকার বার বা বড় বড় পিন্ডে পরিণত হতো। এই বারগুলোকে পরে তিন থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চি মাপে কেটে নিলেই ছোটখাট নীলের কেক তৈরি হয়ে যেতো। এই কেকের গায়ে কোম্পানির নাম ও তৈরির তারিখ ছাপ মেরে দেওয়া হতো। এরপর ড্রাইং রুমের শেলফে কেকগুলোকে শুকানোর জন্য প্রায় মাস তিনেক রেখে দেওয়া হতো। ভেজা অবস্থায় একেকটি কেকের ওজন হতো গড়ে প্রায় ২৪ আউন্সের মতো। তিন মাস শুকানোর পর এই ওজন কমে গিয়ে ঠেকতো ৮ আউন্সে। সবশেষে নীলের কেকগুলো বাক্সবন্দী করে নিলামের জন্য নদীপথে কলকাতায় পাঠানো হতো। প্রতিটি স্তরেই সময়ের পরিমাপ ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সময়ের একটু এদিক সেদিক হলে পুরো উৎপাদনটাই নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকতো।

৮ আউন্সের একটি নীল কেক তৈরির জন্য দু’হাজার বর্গ ফুট জমির প্রয়োজন হতো, অর্থাৎ বিঘাপ্রতি তৈরি হতো ৮টি কেক। কলকাতার বাজারে তখন মণপ্রতি নীলের মূল্য ২০০ টাকা করে ধরলে একজন নীলকর এক বিঘা নীলের জমি থেকে পেতো প্রায় ১২ টাকা, আর একজন রায়তের আয় হতো প্রায় ২ টাকা ৮ আনা। এক হিসেবে দেখা গেছে, এক মণ নীল তৈরির জন্য নীলকরের খরচ হতো ৩০ টাকা। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি তার খরচ ছিল মোটামুটি ২ টাকা। এর মধ্যে থেকে জমির খাজনা, মামলার খরচ, ঋণের সুদ, মূলধন বৃদ্ধির অর্থ এবং সেই সাথে কর্মচারিদের বেতন, মজুরি ও মেরামতি খরচ নির্বাহ করা হতো। সাধারণত মূলধন বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়তো নতুন কাজে অর্থ বিনিয়োগের জন্য নয়, বরং নীল গাছের অধিকতর নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন জমিদারী স্বত্ব কেনার জন্য।

এ ধরনের বিনিয়োগ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা তৈরি করতে পারেনি, বরং তা ধীরে ধীরে দুর্বহ হয়ে ওঠে। এর পেছনে ছিল দুটি কারণ। প্রথমত, রায়তরা ধীরে ধীরে বৈরি হয়ে উঠতে থাকে ও দ্বিতীয়ত, জমিদাররা জমির খাজনা এমনভাবে বাড়াতে থাকে যাতে নীলকররা জমি লিজ নেয়ার পরিবর্তে জমি একবারে কিনে নিতে বাধ্য হয়।

১৮৬০ সালে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেব করে দেখিয়েছিলেন, অন্য কোনো ফসলের চাষ না করে শুধু নীল চাষ করলে একজন রায়তের বিঘাপ্রতি ৭ টাকা করে ক্ষতি হয়। চাষের এই ক্ষতি ছাড়াও রায়তকে নীল কুঠির প্রত্যেক কর্মচারীকে পদে পদে বাধ্যতামূলক ঘুষ দিতে হতো। ঘুষ দিতে হতো গ্রামের মোড়লকেও, যার মাধ্যমে নীলকরের সাথে নীলচাষের বন্দোবস্ত হতো। এছাড়াও ছিল নীল চাষের চুক্তি নিয়ে প্রভূত মামলার খরচ, চুক্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আনুষাঙ্গিক খরচ।

এরপরও রায়ত বেঁচে থাকতো ও সংসার চালাতো। কখনো কখনো ফসল ভালো না হলে আগের দাদন স্বত্বেও নীলকরের দেয়া নতুন দাদনের উপর নির্ভর করে সে সংসারের ভরণপোষণ করতে পারতো। দাদন হলো ব্যবসায়িক চুক্তির স্মারক হিসেবে আগাম প্রদেয় অর্থ। কারখানার হিসেবের খাতায় রায়তের নামের পাশে জমা-খরচের ব্যবধান বাড়তে বাড়তে একসময় তা অনাদায়যোগ্য ঋণ হিসেবে মওকুফ করে দেয়া হতো। নীলকরের উদ্দেশ্যই ছিল রায়তকে দাদন দিয়ে বশে রাখা ও দাদন বাকির ভয় দেখিয়ে তাকে নীল চাষে বাধ্য করা। যেকোনো প্রকারে প্রচুর নীলগাছ সংগ্রহ করাই ছিল নীলকরের লক্ষ্য। অন্য সকল বিবেচনা তার কাছে নিতান্ত গৌণ ছিল।

নীলকররা কৃষকদের উৎকৃষ্টতম জমিতে নীলের চাষ করতে বাধ্য করতো। দাদন নেয়ার সময় টিপসই দেয়া চুক্তিপত্রের শর্তসাপেক্ষে আর কোনো ফসলের চাষ করতে পারতো না তারা। চুক্তিমতো কাজ না করলে বা নীল চাষে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হতো অত্যাচার। সরকারের কাছে প্রতিকারের জন্য নালিশ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বরং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাতেই চলছিল এই নিষ্পেষণ। দারিদ্রের এক মহাদুষ্ট চক্রে পতিত হয়ে দিনের পর দিন ভুগতে হয়েছে বাংলার নীল চাষীদের। আর তাই পরবর্তীতে এক সর্বাত্মক সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমেই চাষীরা বাংলায় নীল চাষের ইতি ঘটায়।

Referance Book

1.

নীল বিদ্রোহ – বাংলায় নীল আন্দোলন ১৮৫৯-১৮৬২; ব্লেয়ার বি কিং; অনুবাদ – ফরহাদ খান, জুলফিকার আলী (প্রকাশকাল – ২০১৪)

(সংগৃহীত)

Leave a Reply

×

Cart