fbpx
ইতালির “Banco” কি আজ আমাদের Bank.

ইতালির “Banco” কি আজ আমাদের Bank.

আজকের দিনে  পৃথিবীর যেকোন দেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ  দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা।  যে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা যত বেশি উন্নত সেই দেশর অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভবনা ততো বেশি হয়।  আজ আমরা জানবো আসলো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কি ? আমাদের দেশে প্রধানত কত ধরণের ব্যাঙ্ক আছে।

 

বিনিময় প্রথার মাধ্যমে যখন লেনদেন চলতো তখন অর্থের কোন প্রয়োজন ছিলোনা , সেই সময়ে অর্থের কথাও কারোর মাথায় আসেনি। কিন্তু বিনিময় প্রথার সীমাবদ্ধতা যত মানুষের সামনে আস্তে থাকে মানুষ ততো বেশি করে এর সমাধন খুঁজতে থাকে।  ঠিক এই সময়ে অর্থের আবিষ্কার হয়। যত মানব সভ্যতা এগিয়ে চলতে লাগলো তেমনি অর্থ বিনিময় মাধ্যম হিসাবে সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্য হতে লাগলে। ঠিক যেমন বিনিময় মাধ্যম হিসাবে অর্থ কবে সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়েছিল বলা যায় না , তেমনি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ঠিক কবে চালু হয়েছিল তাও বলা যায় না।
ব্যাংক শব্দটি ইতালিও ‘ব্যাংকো ‘ থেকে এসেছে বলে অনেকে মনে করে থাকে।  এই শব্দটির আড়ালে একটি বেশ মজাদার ঘটনা আছে।  ইতালিতে “Banco” শব্দটির অর্থ হল লম্বা টুল বা চেয়ার।  প্রাচীনকালে ইতালিতে ইহুদি মহাজনদের ব্যবসা খুব রমরমা ছিল। এই সব মহাজনেরা লম্বা টুল বা চেয়ার এর ওপর বসে ব্যবসা করতো। এই ধরণের মহাজনেরা ব্যবসা করতে গিয়ে জনসাধারণের আস্থা বা বিশ্বাস হারালে এদের এই টুল ভেঙে দিতো। এইখান থেকে দেউলিয়া বা Bankrupt শব্দটির উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়। পরবর্তী কালে এইসব মহাজনেরা ইংল্যান্ডে গিয়ে এই ধরনের ব্যবসা করতো।  যেহেতু তারা টুল বা বেঞ্চ এর ওপর বসে ব্যবসা করতে বলে ইংরেজরা এ ধরনের ব্যবসায়ীদের নাম “benching” বা ব্যাংকিং দিয়েছিলো। এখন থেকেই ব্যাংক কথাটির উদ্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
আজকের দিনে প্রতিটি মানুষের সাথে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েছে।  আমরা জানি ব্যাংক হল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে আমরা আমাদের অতিরিক্ত টাকা সুরক্ষিত ভাবে রাখতে পারি  এবং তার পরিবর্তে আমরা সুদ পাই। আসলে ব্যাংকে টাকা রাখার অর্থ হল আমরা ব্যাংকে তার ব্যবসা করার জন্য আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছি।  সেই কারণেই ব্যাঙ্ক আমাদেরকে তার ব্যবসার লাভ থেকে আমাদের টাকার ওপর সুদ দেয়।
অন্য্ দিকে যেকোন ব্যবসায়ীর কাছে  ব্যাংক হল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ব্যবসা করার জন্য টাকা ধার পাওয়া যায়। ব্যাংক থেকে টাকা ধার করলে মোট ধারের ওপরে সুদ দিতে হয়।  ঠিক এই ভাবে যেকোনো অর্থনীতিতে টাকার চাহিদা ও যোগান ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়।
আমাদের দেশে ব্যাঙ্ক গুলির কার্যকারিতার ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় –
১) বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক
২) কৃষি ব্যাঙ্ক
৩) শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্ক
৪) কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক
৫) আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক
বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক – এই ধরনের ব্যাঙ্ক গুলি সাধারণত জনসাধারণের কাল থেকে আমানত গ্রহণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার কেনাবেচা ও গ্রাহকদের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে। অনেক সময় এই ধরনের ব্যাঙ্ক গুলি ভোগ্যপণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য অর্থের যোগান করে। বর্তমানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলিকেও ধার দেয়।
কৃষি ব্যাঙ্ক – কৃষির সাথে যুক্ত সমস্ত ব্যাঙ্কিং কাজ কর্ম এই ধরনের ব্যাঙ্ক গুলি করে থাকে  যেমন বীজ , সার , ট্রাক্টর , জলসেচ এর জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ কৃষকদের দিয়ে থাকে।
শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্ক – শিল্পের ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন সাধারণত দুই ধরণের  যেমন ১) স্থায়ী মূলধন মানে জমি , যন্ত্রপাতি , নির্মাণ এর জন্য অর্থের দরকার। ২) চলতি মূলধন মানে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল , মজুরি দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন।  এই দুই ধরনের অর্থের যোগান শিল্প উন্নযন ব্যাঙ্ক করে  থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক – এটি দেশের সমস্ত ব্যাংকার ব্যাঙ্ক হিসাবে কাজ করে।  দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার পরিচালনার ভার এর ওপর দেওয়া থাকে।  জনসাধারণের সাথে এই ব্যাংকার কোনো লেনদেন হয় না , শুধু মাত্র সরকারের ব্যাঙ্ক হিসাবে কাজ করে।  প্রতি মুহূর্তে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার পরিচালন করাই হল এর আসল কাজ।
আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আন্তর্জাতিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে এই ব্যাঙ্ক গুলো তৈরী হয়ে ছিল।

Leave a Reply

×

Cart